কোন বিভাগে তাপমাত্রা কত?এমন তাপমাত্রা কয়দিন থাকবে?
আবহাওয়ার তাপ মাত্রা কি?
আবহাওয়ার তাপমাত্রা হল বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা। সাধারণত এটি সেলসিয়াস অথবা ফারেনহাইটে মাপা হয়।এটি দ্বারা আমরা পরিবেশের তাপমাত্রা সম্পর্কে জানা যায়, যেমন ঠাণ্ডা, গরম, বা মাঝামাঝি আবহাওয়ার শর্ত। আবহাওয়ার তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে আবহাওয়ার শর্ত বদলে যেতে পারে, যেমন এক দিনের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের রোশে বা বৃষ্টিপাতের ফলে।
আবহাওয়ার তাপমাত্রা নির্ণয় করা হয় বিভিন্ন ধরণের যন্ত্র ব্যবহার করে, যার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হল থার্মোমিটার। থার্মোমিটারে বিভিন্ন ধরণের তাপমাত্রা পরিমাপক পদার্থ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন
- পারদঃ পারদ থার্মোমিটার সবচেয়ে সাধারণ ধরনের থার্মোমিটার। পারদের আয়তন তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হয়, তাই থার্মোমিটারের নলীতে পারদের স্তরের পরিবর্তন দেখে তাপমাত্রা নির্ণয় করা হয়।
- অ্যালকোহলঃ অ্যালকোহল থার্মোমিটার পারদ থার্মোমিটারের মতো কাজ করে, তবে এগুলি সাধারণত কম তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হয়।
- রোধকঃ রোধক থার্মোমিটারে তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তিত হওয়া একটি রোধক ব্যবহার করা হয়। রোধের পরিবর্তন পরিমাপ করে তাপমাত্রা নির্ণয় করা হয়।
- ইনফ্রারেডঃইনফ্রারেড থার্মোমিটার বস্তু থেকে নির্গত ইনফ্রারেড বিকিরণ পরিমাপ করে তাপমাত্রা নির্ণয় করে।
কোন কাজে ধরনের থার্মোমিটার ব্যবহার করা হবে তা নির্ভর করে আপনার উপর।
- আপনি কতটা নির্ভুলতা চান তার উপরঃ কিছু থার্মোমিটার অন্যদের তুলনায় বেশি নির্ভুল।
- আপনি কী পরিমাপ করতে চান তার উপরঃ কিছু থার্মোমিটার নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পরিসরের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
- আপনার বাজেটঃ থার্মোমিটারের দাম তাদের ধরন এবং নির্ভুলতার উপর নির্ভর করে।
তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য কিছু টিপস সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে হয়।
- থার্মোমিটারটি সঠিকভাবে স্থাপন করুনঃ থার্মোমিটারের নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন যাতে এটি সঠিকভাবে তাপমাত্রা পরিমাপ করতে পারে।
- তাপমাত্রা স্থিতিশীল হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুনঃ তাপমাত্রা পরিবর্তন হচ্ছে এমন এলাকায় থার্মোমিটার রাখবেন না।
- একাধিকবার পরিমাপ করুনঃ নিশ্চিত হতে একাধিকবার তাপমাত্রা পরিমাপ করুন।
তাপমাত্রা পরিমাপের করার জন্য বিভিন্ন স্কেল ব্যবহার করা হয।
- সেলসিয়াস স্কেলঃ এটি সবচেয়ে সাধারণ স্কেল। এই স্কেলে, জলের বরফ বিন্দু 0°C এবং জলের ফুটন্ত বিন্দু 100°C।
- ফারেনহাইট স্কেলঃ এই স্কেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কিছু অন্যান্য দেশে ব্যবহৃত হয়। এই স্কেলে, জলের বরফ বিন্দু 32°F এবং জলের ফুটন্ত বিন্দু 212°F।
- কেলভিন স্কেলঃ এটি বৈজ্ঞানিক কাজে ব্যবহৃত একটি
বাংলাদেশের কোন বিভাগে সবচাইতে বেশি তাপমাত্রা?
বাংলাদেশের তাপমাত্রা বিভাজনের ব্যাপারে একটি প্রধান কারণ হল বাংলাদেশের ভূগোল। প্রায় সবগুলি বিভাগে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত উচ্চ হয়, কিন্তু মাসিক উচ্চতা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণে স্থানীয় পরিবর্তন থাকতে পারে। প্রায় সবগুলি বিভাগের মধ্যে রাজশাহী বিভাগের কোন অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা সবচাইতে বেশি হতে পারে, কারণ এটি পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সর্বোচ্চ এলাকা, যেখানে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত উচ্চ হয়। তবে, এটি পরিবর্তন করতে পারে এবং অন্যান্য বিভাগের উচ্চতা ও পরিমাণের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।
আরো পড়ূনঃ ইউরোপ মহাদেশ কয়টি দেশ নিয়ে গঠিত?
বাংলাদেশের কোন বিভাগে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ তাপমাত্রা দিনের বেলায়, ঋতু অনুযায়ী এবং স্থানভেদে পরিবর্তিত হয়। তবে, কিছু বিভাগ সাধারণত অন্যদের তুলনায় বেশি গরম থাকে।
গতক (২৮ এপ্রিল, ২০২৪) তথ্য অনুসারে তাপমাত্রা ছিল।
- সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ৪২.৬°C (যশোর, খুলনা বিভাগ)
- উষ্ণতম বিভাগ: খুলনা বিভাগ (গড় তাপমাত্রা ৩৫.২°C)
সাধারণত, খুলনা, রাজশাহী, এবং চট্টগ্রাম বিভাগগুলো বাংলাদেশের সবচেয়ে গরম বিভাগ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বিভাগগুলোতে গ্রীষ্মের সময় তাপমাত্রা ৪০°C এর উপরে যেতে পারে।
তবে একটা বিষয় মনে রাখবেন।
তাপমাত্রা দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। আজকের সবচেয়ে গরম বিভাগ আগামীকাল সবচেয়ে গরম নাও হতে পারে।স্থানীয় জলবায়ুও তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করে। কিছু এলাকা, যেমন নদীর তীরবর্তী এলাকা, অন্যান্য এলাকার তুলনায় ঠান্ডা হতে পারে।
বাংলাদেশের ১০ বছরের (২০১৪-২০২৩) গড় তাপমাত্রা ছিল ২৫.৫°C।
তবে, গড় তাপমাত্রা ঋতুভেদে পরিবর্তিত হযয়ে থাকে ।
- গ্রীষ্ম (মার্চ-মে): গড় তাপমাত্রা ৩০°C এর উপরে থাকে।
- বর্ষা (জুন-সেপ্টেম্বর): গড় তাপমাত্রা ২৮°C এর কাছাকাছি থাকে।
- শীত (অক্টোবর-ফেব্রুয়ারী): গড় তাপমাত্রা ২০°C এর নিচে থাকে।
গত ১০ বছরে, বাংলাদেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। ২০২৩ সালে, দেশের গড় তাপমাত্রা ছিল ২৫.৮°C, যা ২০১৪ সালের গড় তাপমাত্রা (২৫.২°C) এর চেয়ে ০.৬°C বেশি।
বাংলাদেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ:
- জলবায়ু পরিবর্তনঃ বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাংলাদেশের তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- বন উজাড়ঃ বন উজাড়ের ফলে বাংলাদেশের পরিবেশে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।
- শহরাঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধিঃ শহরাঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে তাপ দ্বীপ প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে শহরের তাপমাত্রা আরও বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাবে ।
- চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধিঃ তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতিঃ তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।
- স্বাস্থ্য ঝুঁকি বৃদ্ধিঃ তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু জ্বরের মতো রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- জলসম্পদের উপর চাপঃ তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে জলসম্পদের উপর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পৃথিবীর সবচাইতে বাশি তাপমাত্রা কোন দেশে?
পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা কোন দেশে, এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে আপনি কিভাবে বেশি কে সংজ্ঞায়িত করেন তার উপর।
- গড় তাপমাত্রার ক্ষেত্রে, ইথিওপিয়ার ডালোল বিশ্বের সবচেয়ে গরম স্থান। এখানে গড় বার্ষিক তাপমাত্রা 31°C (88°F)।
- সর্বোচ্চ রেকর্ড করা তাপমাত্রার ক্ষেত্রে, লিবিয়ার আজিজিয়ায় 58°C (136°F) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
- ইরান
- কুয়েত
- সৌদি আরব
- মালদ্বীপ
- সোমালিয়া
- জিবুতি
- বেলিজ
- মেক্সিকো
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
অনেক সময় তাপমাত্রা বিভিন্ন কারণে পরিবর্তিত হতে পারে, যেমন।
- উচ্চতাঃ উচ্চতায় তাপমাত্রা কম থাকে।
- অক্ষাংশঃ বিষুবরেখার কাছাকাছি অঞ্চলগুলো সাধারণত সবচেয়ে বেশি গরম থাকে।
- স্থানীয় ভূপ্রকৃতিঃ পাহাড়, মরুভূমি এবং জলের বিন্যাস তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।
- বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থাঃ এল নিনো এবং লা নিনার মতো ঘটনাগুলি তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তাই কোন দেশটি সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ধারণ করে তা নির্ধারণ করা কঠিন।আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট দেশকে বলেন তা এখুন বলা ভুল হবে কারন এখুন বাংলাদেশও মধ্যপাচ্যের দেশগুলোর মত তাপদাহে পুড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ডিজিটাল সাকসেস আইটির নিতীমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url